ছায়াছবি তালিকায় ফিরে যান

ছায়াছবি ১৯

বন্ধুরা বন্ধুদের বলবে

December 15, 2025

জীবনে চলার পথে সব বন্ধুই গুরুত্বপূর্ণ। এমনও হতে পারে কারো সাথে আর কখনো আবার দেখা হলো না। তবুও আপনার উপর হয়তো কখনো না কখনো সে প্রভাব ফেলেছে। আসলে কোথায় যেন পড়েছিলাম কেও একজন বিচিত্র বর্ণের পুতি দিয়ে মালা তৈরী করতেন। একেকটা রঙিন পুঁতি একটি বন্ধুর জন্য। গত সংখ্যা থেকে বন্ধুদের কথা বলছি। সবার কথা লেখা হচ্ছে না। কিন্তু এ বলে তারা কম গুরুত্বপূর্ণ নয় আমার কাছে। আসলে আমি সময়ের কথা বলছি। ব্যক্তির কথা নয়। যাতে আপনাদের সামনে ভেসে উঠে কেমন ছিল আমাদের ছেলে বেলা।

আমাদের একটা বাস্কেট বল গ্রাউন্ড ছিল। টিফিন সময়ে বা কোনো গ্যাপ পিরিয়ডে সেখানে বসে বা তার পাশে হেঁটে হেঁটে গল্প। অনেকে খেলতো, টিলো এক্সপ্রেস, সাত চারা , দল বেঁধে দড়ি লাফানো, বুড়ি ছো , কুমির ডাঙ্গা । দল বেঁধে দড়ি লাফানো মানে একটি দড়ির দুপাশে দুজনে ধরে ঘোরাতো। আর বাকিরা মাঝখানে লাফাতো। কিন্তু আমি খেলতাম কম। একেবারে খেলি নাই তা নয়। যায় হোক বাস্কেট বল গ্রাউন্ড চারপাশে হেঁটে হেঁটে রুফসার সাথে গল্প করতাম মনে আছে। রুফসা হাসিনা আফরোজ। পরবর্তীতে আমরা একসাথে অগ্রণীতেও পড়েছি। রুফসার আম্মা টেলিভিশনে রবীন্দ্র সংগীত গাইতেন। ওর আরেকটি নাম ছিল মৌলি। এই নামটি আর কোথাও শুনেছে বলে মনে হয় না। সে বলতো এই নাম অর্থ হচ্ছে মুকুট। আমাদের সময়ে নামগুলো কি চমৎকার ছিল তাই না ?

সপ্তম শ্রেণীতে আমাদের সাথে যোগ দিলো ফৌজিয়া। অল্প সময়ে সে আমার খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠলো। ফৌজিয়া এমন বন্ধু যে খুব নরম মনের কিন্তু সে আমাকে সবসময়ই ঠিক ঠিক ফিডব্যাক দিতো যেটা শুধু একজন ভালো বন্ধু ই করতে পারে। পেডিট্রিক এন্ডোক্রিনোলজিস্ট প্রফেসর ফৌজিয়া মহসিন আর আমি একই শহরে থাকি- সে বনানীতে আমি উত্তরায়। হরহামেশা দেখা সাক্ষাৎ হয় না। কিন্তু যখনি হয় বা ফোন এ কথা হয়- আমরা দুজনেই দুজনের কাছে মন খোলার জায়গা পেয়ে যাই।

আর আগের অধ্যায়ে রেলওয়ের বন্ধুদের কথা বলেছিলাম। আমাদের সি আর বি এর সাদা মাতা জীবনে দিশা নিয়ে এলো নতুনত্বর ছোয়া। দিশার আগেই চুট্টগ্রামে এসেছিলো কিন্তু তখন তারা মেহেদী বাগে থাকতো আর বাওয়া স্কুলে পড়তো। ক্লাস সিক্সে থাকতে একবার জন্ম দিনের দাওয়াত পেয়ে ওদের মেহেদীবাগের বাসায় গেলাম। ওমা দেখি দিশা একটি সুন্দর সবুজ রঙের লং ড্রেস পড়েছে। জন্মদিনে অনেক আনন্দ হলো। খুব ছোট বেলায় জন্ম দিন হলেও এরপর বহুদিন জন্মদিন হয় নি। জন্মদিন মানে ছিল আম্মা একটু পোলাও কোর্মা রাঁধবে আর আমরা খাবো।

আসলে ব্যাপার ছিল যে দিশার আম্মা আন্টি খুব সুন্দর পোশাক Design করতে পারতেন। এবং সেই কারণেই দিশার পোশাকে নতুনত্ব থাকতো。 aunti আমাকে এতো চমকের একটা মিডি ( তখনকার একটি ড্রেসের নাম ) ডিজাইন করে দিলেন যে সেটা পরা অবস্থায় দেখে আমার এক প্রাক্তনের মাথা ঘুরে গিয়েছিলো। দিশারা সি আর বি চলে আসলো। ক্লাস এইটে স্কলাস্টিকায় ভর্তি হলো। দিশার কাছ থেকে ইংলিশ গানের casstte খুব সম্বত বনি এম এনে শুনেছিলাম।

আমাদের আঁকিয়ে বন্ধু নাহিদ সবসময়ই প্রাণবন্ত। লিব্বির সাথে মাঝে মাঝে দেখা হয়। নাহার নবুয়ত আর মারিয়াম কানিজ এর স্তাহে FB এর মাধ্যমে যোগাযোগ প্রতিষ্টিত হয়েছে। কিরণ হাবিব সচলসটিকে alamni পুনর্জীবনের চেষ্টা করছে।

সব বন্ধুকেই ভালোবাসা জানাই। এইতো জীবন। ভালোবাসা ছাড়া আর কি আছে?