এ বছরের শুরুতে ছায়াছবি সিরিজটি শুরু করেছিলাম। সতেরো পর্ব পর্যন্ত লিখেছিলাম। তারপর আর লেখা চালিয়ে যেতে পারি নি। জীবনের বিভিন্ন বাস্তবতা এবং মোহের কারণে। যা হোক মোহ ভঙ্গ হয়েছে। আবার হয়তো নতুন করে হয়তো কোনো নতুন মোহ শুরু হবে। যত যাই বলেন মানুষের মস্তিস্ক একটি জটিল ব্যাপার। কখন কি হয় বলা বলা মুশকিল। পুরুনো কথায় ফিরে আসি। ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে মনে করিয়ে দেই যে আমি ছায়াছবি সিরিজটিতে আমার অকিঞ্চিৎকর জীবনের কিছু কথা লিখছিলাম। আসলে আমি সেই সময়ের কথা বলছিলাম প্রায় ৪৭ /৪৮ বছর আগের কথা।
আমাদের স্কুল বাসটি দুই পাহাড়ের মাঝখানে একটি জায়গায় থামতো। পাহাড়ের গায়ের সিঁড়ি দিয়ে একটি মেয়ে নেমে আসতো। তখন তার চুল ঘাড় পর্যন্ত ছিল। সে নামতো আর তার রেশমি চুল তালে তালে দুলতো। আমি ভাবতাম মেঘের দেশ থেকে ছোট্ট প্রিন্সেস নামছে। হ্যা প্রিন্সেস কথাটি মনে হাত , রাজকন্যা নয়। সে স্কলাস্টিকায় আমার প্রথম বন্ধু। আমরা একসাথে স্কুল বাসে পাশাপাশি বসে স্কুলে যেতাম , হেঁটে সেন্ট প্লাসিড পার হয়ে স্কুলে যেতাম। টিফিন টাইম এ সিঁড়িতে বসে একসাথে টিফিন খেতাম আর আঁতেল আঁতেল গল্প করতাম। যদিও সে আমাকে যে " লুনা তুমি খুব আঁতেল ছিলে।' একটা কথা আমাদের তুই বলার কালচার ছিল না। বন্ধুদের তুই বলতে শিখি মেডিক্যালে এসে। যাই হোক তানিজা করিম সোমার প্রতি আমার একধরণের মুদ্ধতা ছিল। আমার মা বলতেন " দেখো তো করিম সাহেবের মেয়েটা কত স্মার্ট "I শশুর বাড়ির কারো কথা বলে বলতেন তুমি তাদের মত আউলা ঝাউলা। মা গো স্বভাব যায় না মোলে। আমি এতখানি বয়সেও আউলা। সোমার সাথে স্কুলে আমার প্রতিযোগিতা প্রথম স্থান নিয়ে। কিন্তু মেডিকেলে ? সে ছিল অনার্স পাওয়া আমাদের ব্যাচের ফার্স্ট গার্ল। আর আমি টেনে টিউন পাশ। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। পেডিয়াট্রিক অনকোলজিস্ট তানিজা করিম এমন একজন যে আমাকে আমার আউলা ঝাউলা নিয়ে ভালোবাসে।
এরপর বলবো শায়লার কথা। একদিন আব্বুর কলিগ মতিন আংকেল আসলেন তার ফুটফুটে দুই মেয়ে নিয়ে। তিনি সদ্য ইংল্যান্ড থেকে এসেছেন। মেয়েদের আমাদের স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। আমাকে গুরু হিসাবে ধরিয়ে দিলেন। ওরা এখানকার কিছু বুঝে না আমাকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে I আলগা মাতব্বর আমি বিরাট কাজ পেলাম। তাকে স্কুলে নিয়ে গেলাম। প্রথম দিন আমাদের বাসায় একটু গুতাগুতি করেছিলাম। কিন্তু সে কোনো কথা বলে না। পরে বোঝা গেলো সে অসম্ভব স্বল্প ভাষী। স্কুলে যাবার পর সবাই তার দিকে তাকিয়ে থাকে কারণ সে ছিল ধবধবে ফর্সা, চুলগুলোও হালকা রঙের - মানে ইংল্যান্ড থেকে আসা ইংলিশ মেয়ের মত। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সে পড়ালেখা ধরে ফেললো এবং আমাদের সাথে প্রথম স্থানে প্রতিযোগিতা করতো। মানে আমার মাতব্বরি খতম আর কি ! তার সাথে মেডিক্যাল কলেজ এ কাছাকাছি ছিলাম। একসাথে যাতায়াত করতাম। সাংসারিক প্রয়োজনে সে কানাডা বাসি হবার পর এখন যোগাযোগ কম। কিন্তু আমি জানি সেও আমার খুব ভালো বন্ধু।
বুশরার সাথে আমার বন্ধুত্ব আমাদের বুদ্ধি হবার আগে থেকে। যখন আমরা পাকশীতে একসাথে ছিলাম। আমি, বুশরা, বাপ্পি। ডাক্তার বাপ্পি পরবর্তীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। একবার আমি আর বাপ্পি বুশরাকে দোলনায় বসিয়ে দোল দিতে গিয়ে ফেলে দিয়েছিলাম। বুশরাকে বাসা ছিল একটি অবিস্মরনীয় জায়গা। অবারিত দ্বার। ওরা চার বোন ছিল। সবার বান্ধবীই ওখানে জড় হতো. ওদের পাহাড়ের নিচে পরীক্ষা শেষে আমরা পিকনিক করতাম। অফিসিয়াল ডিনারে আম্মারা গেলে আমাদের সবাইকে ওদের বাসায় রেখে যাওয়া হত I তখন আমাদের সে কি ফুর্তি !! বুশরাও আমাকে আমার পাগলামি ছাগ্লামি সহ ভালোবাসে এবং বুঝে। মাঝে মাঝে বুশরার গুলশানের বাসায় অঢেল আপ্যায়ণ করে।