সেন্ট স্কলাস্টিকায় প্রথম ত্রৈমাসিক পরীক্ষাতেই প্রথম হয়ে গেলাম। এরপর থেকে প্রথম হয়েছি পরবর্তী পাঁচ বছর ( অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত)। এই ব্যাপারটি আমাকে পারফরমেন্স প্রেসার এ ফেলে দিয়েছিলো। শুধু পারফরমেন্স প্রেসার না, মাথার উপর একটা ভালো ছাত্রীর "halo effect " নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি সারা জীবন। আপনি যা না সেই " Halo ইফেক্ট" আপনার উপর আরোপিত হলে আরো অনেক ব্যাপার ঘটে সেটা হলো সেলফ কন্সিউসনেস, নূরভাসিনেস, হীনমন্যতা ইত্যাদি। আমি বলছি না যে আমি প্রথম হবার উপযুক্ত ছিলাম না। কিন্তু এ ব্যাপারটা একটি প্রত্যাশা তৈরী করেছিল। ছোটবেলায় অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত অনেক জেনারেল সাবজেক্ট পড়ানো হয়। সেখানে কেউ ভালো করলে যে সে সারাজীবন তাকে ভালো করতেই থাকবে , বা বিজ্ঞানী হবে বা অমুক তমুক করব তা কিন্তু নয়। আল্টিমেট ভালো রেজাল্ট করা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। মেধাবী হওয়া আর ভালো ছাত্রী হওয়াও এক ব্যাপার নয়। আপনার যে সব বিষয়ে মেধা থাকবে তাও নয়। আর সফলতার ব্যাপারতো দিল্লি দুরস্ত। তার জন্য লাইফ স্কিল দরকার।
যাই হোক আপাততঃ প্রথম হওয়ায় ফিরে আসি। পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় আমাদের স্কুল থেকে আমি ই একা বৃত্তি পেলাম। আসলে এই স্কুলটি স্বাধীনের আগে ইংলিশ মিডিয়াম ছিল। এই ধরণের পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার অভিজ্ঞতা ছিল কম। তা এর মধ্যে আমি বৃত্তি পেলাম। অষ্টম শ্রেণীতে scenario চেঞ্জ। তানিজা সোমা এবং শায়লা ফাৰ্ষ্ট গ্রেড এ বৃত্তি পেলো। আমি সেকেন্ড গ্রেড এ। আমার আব্বা রেজাল্ট শিট আনিয়ে দেখলেন ( ততদিনে আমরা ঢাকায় চলে এসেছিলাম।) প্রথম গ্রেডে দশ জনের মত। তার মধ্যে তানিয়া আর শায়লা। আমার নাম দ্বিতীয় গ্রেড এ দুই নাম্বার এ। কিন্তু এহ বাহ্য। মূল ব্যাপার হচ্ছে যে এতে বোঝা যায় যে যত বড় হচ্ছি, focusing এ কোথাও ব্যতয় ঘটছে।
এর আগের পোস্টে সি আর বি এর প্রাকৃতিক পরিবেশের কথা বলেছি। আমাদের সামগ্রিক পরিবেশই ছিল অন্যরকম। আমাদের বাবা মায়েরা সবই ভালো ছাত্র ছাত্রীর ঐতিহ্য বহন করছিলেন এবং ছেলে মেয়েরা ও ভালো ছাত্র ছাত্রী ছিল। বোঝেন অবস্থাটা ! ভালো মানে ভালো ? সেইরম ভালো। আমাদের আগের ব্যাচে মিতুল আপা ( রফিক চাচার মেয়ে ) বুয়েটে চান্স পেলেন। ১৯৮৪ সালে বুয়েটে এ চান্স পাওয়া চারটি খানি কথা নয় I আর আমাদের এক ব্যাচ জুনিয়র নায়লা হোসেন রিয়া ( তোফাজউল চাচার মেয়ে) এসএসসি তে কুমিল্লা বোর্ডে সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হলো এব্বং HSC First হলো সম্মিলিত মেধা তালিকায় । এগুলো তো গেলো অউটস্টান্ডিং ব্যাপার। কিন্তু এছাড়াও সবাই ভালো ছাত্র সবাই ভালো রেজাল্ট করে এরকম একটা ব্যাপার ছিল।
শাহীন স্কুলে আমার রেজাল্ট খারাপ ছিল না। কিন্তু সেখানে পারফরমেন্স প্রেসার ছিল না। যাই হোক সেন্ট স্কলাস্টিকার নতুন দিকগুলোর মধ্যে কিছু আড্ডিশনাল ইংরেজি বই পড়তাম। যেমন -------------------------. এই বইগুলোর ছবি ইন্টারনেট থেকে দিলাম।এই বইগুলো অনেকেই পড়েছেন। স্মৃতি মনে হতে পারে। আর হয়তো এইজন্য এই পোস্টের ভিউ বাড়তে পারে।
আমার বান্ধবীরা অনেকে আমাকে বলে যে "তুমি আমাদের চেয়ে অনেক বেশি বুঝতে। কেউ বলে "তুমি ভাই একটু আঁতেল ছিলে। " "হলো ইফেক্ট" ভাই বেশি বোঝা ভালো নয়। আর আমার ছিল আঁতেল আঁতেল ভাব। আঁতলামি এর অভাব।
