জীবনের বাস্তব প্রয়োজনে লেখার সময় হয় না। কিন্তু মনের মধ্যে কথা তো চলতেই থাকে। এখনো আমার নানা বাড়ি পর্বেই আছি। আমার নানা বলতেন পারফেক্ট জেন্টল ম্যান রাগবে কিন্তু চিৎকার করবে না, গালি তো দেবার কথা কল্পনাতেও থাকবে না। এটাই হলো শরীফ লোকের ব্যবহার। আর একটা শব্দ ছিল " সিভিক সেন্স'। কিছু হলেই বলতেন সিভিক সেন্স নাই। এই যেমন ধরুন রাস্তায় কেউ জোরে থুতু ফেললো, ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলে গেলো অথবা চিৎকার করে কথা বললো কিংবা অন্যের জায়গায় বসে পড়লো কিংবা যেখানে দরকার নেই সেখানে কথা বললো তো নানা বলতেন সিভিক সেন্সর অভাব। এই ছিল বাঙালি মুসালমান রেনেসাঁ যুগের ভদ্রলোকের কাঙ্খিত আচার ব্যবহার বা সামাজিক নোর্ম্। ভাব দেখানো বা হ্যাডম দেখানো কে খুবই নিচু মানের কাজ হিসাবে দেখা হতো ভদ্রলোকের মাপকাঠিতে। কিন্তু নানা ভাই , এখন যুগ বদলেছে। এখন আয়োজন করে লোক দেখিয়ে হ্যাডম দেখানো হয় আর তাতেই কার কত ক্ষমতা বোঝানো হয়।
নানাদের যুগ ছিল বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্তের যুগ। কিন্তু তার আগেও একটা যুগ ছিল। সেই সামন্ত বা মিঞাদের যুগ । সেই সময়ের এক হ্যাডমের গল্প বলি। এই গল্প আমার মায়ের কাছে শোনা। তবে এটা কোন খানকার গল্প সেটা আমি জানি না। কোন গ্রাম কোন তালুক মুলুক , বিশ্বাস করুন, কিছুই জানি না। যাক কোনো এক তালুক মুলুকে এক চাষ ভুষা মানুষ বিয়ে করে বাড়ি ফিরছিলেন।পালকিতে তার নতুন বৌ। মিয়াদের বাড়ির কাছ দিয়ে আবার সময় মিয়ার সামনে পরে গেলো। মিয়ার সামনে পড়লে দাঁড়াতে হবে এবং সালাম দিতে হবে না হলে বিরাট বেয়াদপি। তো সেই গৃহস্থ মানুষ পালকি নামিয়ে মিয়াকে সালাম করলেন।পালকির ভিতরে কিশোরী বৌ মানুষটির মিয়ার নাম শুনে ভারী কৌতহল হলো. সে টুক করে পালকির ছোট জানালাটি খুলে দেখে আবার ঝাঁপ বন্ধ করে দিলো। কিন্তু ততক্ষনে মিয়ার বেটা সুন্দরী বৌটিকে দেখে নিয়েছে। আর যায় কোথা। মিয়ার বেটা চাষাকে বললেন " ব্যাটা এক্ষনি তালাক দে". চাষা হাতে ধরে ,পায়ে ধরেI কোনো কাজ হলো না। বেচারা তালাক দিয়ে বাড়ি চলে গেলো। আর মিয়া সায়েব সেই গৃহস্থ কন্যাকে নিকা করলেন। বলা বাহুল্য এটি মিয়ার প্রথম বিয়ে নয়। ।
যাক মিয়াদের যুগ থেকে নিজের যুগে ফিরে আসি।আমি নানার শিক্ষা ভুলে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কখনো সখনো ভাব নিতে চেষ্টা করেছি।কিন্তু দেখেছি আমি ভাব নিলেও যা না নিলেও তা। বস্তুত:যতই ভাব নেই লোকে আমাকে বোঝে যে এ ক্ষমতা থাকলেও ক্ষমতাহীন- নিরামিষ -পাত্তা না দিলেও চলবে। কাজে কাজেই হ্যাডম শুধু দেখলেই হবে না। হ্যাডম কে আত্মস্থ করতে হবে। নাহলে হ্যাডমের যুগে আপনি জিরো।হয়তো ভাবছেন বেশি দেখাইলে ক্ষমতা চলে গেলে কি হবে অরে ভাই যারা হ্যাডম ধারণ করে নিজের ভিতর তাদের ক্ষমতা কি আর যায়?
এটি একটি মধ্যবর্তী পোস্ট। মানে অচিরেই একটি বড় গল্পওয়ালা পোস্ট পাবেন। এখন ইফতার করতে যাবো। নানার ছবি দিলাম।