ছায়াছবি তালিকায় ফিরে যান

ছায়াছবি ৩

January 16, 2025

আমাকে আজিমপুর গার্লস স্কুলে ভর্তি করে দেয়া হলো। ক্লাস টু তে। বয়স অনুযায়ী ১৯৭২ এ ক্লাস টু তে ভর্তি হওয়ার কথা না আমার। তবুও রীতিমত এডমিশন টেস্ট দিয়ে ভর্তি হলাম। পরবর্তীতে অবশ্য আমার অভিভাবকরা তাঁদের ভুল বুঝতে পেরে আমাকে এক ক্লাস নামিয়ে দিয়েছিলেন । আজিমপুর স্কুলে আমি খুব অল্প সময় পড়েছিলাম। সহপাঠী দের নিয়ে তেমন কোনো স্মৃতি নেই। তবে কয়েকটি বিশেষ ঘটনা মনে আছে।

আমাদের লাইন এ দাঁড় করিয়ে প্যাকেটে গুঁড়ো দুধ আর কাপড় দেয়া হয়েছিল। হয়তো কোনো সাহায্য সংস্থা থেকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের শিশুদের জন্য এগুলো দেয়া হয়েছিল। আমাদের শিক্ষিকা আপা বলেছিলেন "এটা দিয়ে জামা বানিয়ে দেখাবে।" হয়তো তিনি এমনি বলেছিলেন। কিন্তু স্কুলের আপা বলেছেন এখন এটা বানাতেই হবে। এটা আমার মাথায় ঢুকে গেলো। আম্মা বলেছিলেন " আরে এগুলো বালিশ বানানোর কাপড়। " কিন্তু আমি নাছোড় বান্দা। শেষে আম্মা তাঁর মেজো মামার বাসায় গিয়ে মামাতো বোনদের সহযোগিতায় ওই কাপড় দিয়ে একটা ফ্রক বানিয়ে দিলেন। ওই বাসায় যেতে হলো কারণ আমার আম্মার সেলাইয়ের মেশিন যুদ্ধের সময় লুট হয়ে গিয়েছিলো। আমাদের পাকশীর বাসা দেখে আমাদের সর্ব্বস্ব লুট হয়েছিল। যাঁরা ঢাকায় ছিলেন তাঁদের তেমন কিছু খোয়া যায়নি। আবার অনেক পরিবারের মানুষটিই চলে গিয়েছিলো। আমাদের জনের উপর দিয়ে যায় নি। মালের উপর দিয়ে গিয়েছিলো। আমার আম্মা বলতেন "বাসা ছেড়ে আসার সময় লুনার ৬৪ টি জামা/ ফ্রক ছিল।" এগুলো আসলে নামি দামি ব্র্যান্ড এর জামা নয়। আম্মার শখ ছিল। তিনি নিজে সেলাই করতেন। তখন বেশির ভাগ মায়েরাই তাই করতেন। ঘরে ঘরে সিঙ্গার সেলাই মেশিনের জয়জয়কার ছিল। যাই হোক এই রিলিফের কাপড়ের জামাটি আমার মনে আছে। লাল বড় বড় ফুলওয়ালা জামা।

এই বছর কোনো এক সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এসেছিলেন। আমার মনে আছে আমার মেজো মামার সদ্য কেনা টিভিতে আমরা জনসমাগমের অনুষ্ঠানটি দেখেছিলাম। আমার আব্বা আমাকে নিয়ে দেখতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যেতে পারেন নি। ভুল বুঝবেন না আমার বাবা ভারতের অনুরাগী বা বিরাগী কিছুই ছিলেন না। আমার বাবা যে কোনো যুগান্তকারী নারী ব্যক্তিত্ব কে দেখলেই ভাবতেন "আমার মেয়ে এমনটি হবে" এবং আমাকে ইনস্পিরেশন দিতে থাকতেন। যেমন তিনি আমাকে প্রফেসর বলে ডাকতেন। পিতার অন্ধ ভালোবাসা আর কি।