ছায়াছবি তালিকায় ফিরে যান

ছায়াছবি ৪

January 18, 2025

ওই একই বছর (১৯৭২) এ আমার জন্ডিস হয়েছিল। আসলে আম্মা ইউনিভার্সিটি তে গেলে আর আমার স্কুল ছুটির পর আমি হয়ে যেতাম টোটো কোম্পানির ম্যানেজার। পাড়া মহল্লা ঘুরে বেড়াতাম। একবার মনে আছে পাশের এক বাড়িতে গিয়ে আমি মরিচের ভর্তা দিয়ে মাখানো ভাত খেয়েছিলাম। বুঝতেই পারছেন আমার অবস্থা। এছাড়া এই সময় খুব সংক্রামক ব্যাধি হচ্ছিলো। যুদ্ধ ক্ষেত্র এবং শরণার্থী শিবির থেকে সবাই ফিরে আসছিলেন। conjuctivitiis শরণার্থী শিবিরে এমন পরিমানে হয়েছিল যে তার নামই হয়ে গিয়েছিলো "জয় বাংলা" রোগ। যাই হোক আমাকে রেলওয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বিলিরুবিন কি পরিমান বেড়ে ছিল জানা নেই। তবে আমাকে কয়েকদিন হাপাতালে থাকতে হয়েছিল।

আমি ছিলাম পুরাতন রেলওয়ে হাসপাতালে I মূলতঃ ফুলবাড়ীয়া স্টেশনকে কেন্দ্র করে এই পুরাতন রেলওয়ে হাসপাতাল এবং তার আশে পাশে রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীর কিছু বাসা ছিল। রেলওয়ে হাপাতালটি ছিল লাল রঙের দোতালা। উপরের তলার টানা বারান্দার একপাশে তিনটি বড় ঘর ছিল। এইগুলোকে কেবিন বলতো।এই কেবিন গুলোর মধ্যে এক নম্বর কেবিনে আমি ছিলাম। ঘরটির সামনের দিকে বড় বড় জানালা ছিল যেগুলো পুরানো দিনের খিড়কি টাইপ পাল্লা দিয়ে খোলা বন্ধ করা যেত। বাথরুমের জানালা দিয়ে বড় বড় গাছ দেখা যেত। একটু দূরে দেখা যেত শহীদুল্লাহ হল। এই লাল দোতালা হাসপাতাল ভবনটির আর কোনো অস্তিত্ব এখন নেই। সেখানে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের আধুনিক ভবন হয়েছে। অনেক খুঁজে ইন্টারনেটে ভবনটির একটি ছবি পেলাম। সংযুক্তি দিলাম।

তখন বাড়িতে কারো অসুখ বিসুখ হলে ফার্স্ট পয়েন্ট অফ কন্টাক্ট ছিলেন আমাদের রেলওয়ের ডাক্তার চাচারা।আমাদের পরিবারগুলোকে দেখেছি তাঁদের সাথেই প্রথম যোগাযোগ করতে। পরে তাঁরা অবস্থা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করতেন। এই ছিল নিয়ম। রেলওয়ের চিকিৎসা সুবিধা একটি বিশেষ সুবিধা হিসাবে গণ্য করতেন রেলওয়ে পরিবারের লোকেরা। আমি জানি না এখনো তা আছে কিনা।

আমার জন্য দাদুর বাসার থেকে খাবার আসতো পেঁপের ঝোল, জাউ ভাত। আম্মা লেবু চিপে ভাত আর ঝোলের সাথে মাখিয়ে আমাকে খেতে দিতেন।এখনো পেঁপের ঝোল দিয়ে ভাত খেতে গেলে সেই সুবাস পাই। আম্মা আমাকে সান্তনা দিতেন "তোমার কি কি খেতে ইচ্চে করে লিখে রাখো, আমরা পরে সেগুলো খাবো।" আমি খবরের কাগজের চারিদিকের সাদা অংশে কোর্মা, পোলাও , কাবাব এগুলোর নাম লিখে রাখতাম। সব কিছুর বানান আমি জানতাম না। আম্মা আমাকে দেখিয়ে দিতেন। এই সময় একদিন জানালা দিয়ে দেখলাম অনেকগুলো লোক সার বেঁধে কিছু বলতে বলতে যাচ্ছে।আম্মা বললেন "ওই যে তোমার টুলু মামা যায়। " আমার টুলু মামা হচ্ছেন আমার সেই মামা যার কারণে শৈশবে "জাসদ" আমার জন্য একটি পরিচিত শব্দ ছিল। ক্রমশ: জানতে পারবেন।