ছায়াছবি তালিকায় ফিরে যান

ছায়াছবি ৭

February 18, 2025

আজকে হাঁটতে বেড়িয়েছিলাম। সেক্টরের রাস্তা দিয়ে এবং পার্কে হাঁটতে গিয়ে মনে হলো আগেও অনেক লোক এই পার্কে হেঁটেছে এখন তাঁরা আর হাঁটেন না। পরেও আরো অনেকে হাঁটবেন তখন আমি আর থাকবো না। এটাই নিয়ম। তাই তো এই ছায়াছবি তৈরী করি যেন এটা থাকে যায়।

যাই হোক আগের পর্বে বলেছিলাম যে আমরা ১৯৭৩/ ৭৪ সালে গুলশানে নানার বাসায় ছিলাম কারণ আমার আব্বা জার্মানিতে প্রশিক্ষণে ছিলেন। আব্বাকে আমরা বিদায় জানাতে পুরানো এয়ারপোর্টে গিয়েছিলাম। তখন একটা ঝুলানো বারান্দা মতো ছিল সেখান থেকে যাত্রীদের প্লেনে উঠা দেখা যেত। আমাদের এখনকার এয়ারপোর্ট তেমন বড় কিছু না। তখনকার এয়ারপোর্ট এর কথা তো বলাই বাহুল্য। আব্বুর baggage পরবর্তীতে Lufthansa ( জার্মান এয়ারলাইন্স) কথাটি দেখেছিলাম। আমি ভাবতাম লুৎফুন্নিসা।

আম্মা হালকা আকাশি রঙের এইরোগ্রাম আর BY এয়ার খাম নিয়ে আসতেন। এরোগ্রামে সরাসরি লেখা যেত আর খামে চিঠি ভরা হত। কি লিখতাম এখন আর মনে নেই। কিন্তু এটা মনে আছে যে আম্মা আমাকে লিখতে দিতেন। আবার আব্বুর চিঠির একটা অংশে আমাদের উদ্দেশ্য করে লেখা থাকতো। প্রথম দিকে আব্বু শুধু আমাকে সম্বোধন করতেন। আব্বুর ধারণা ছিল আমার ভাইটি তো ছোট- পড়তে পারে না । কিন্তু আমার ভাইটি চিঠি নিয়ে "আমাল।, আমাল " ( আমার আমার " ) বলে টানাটানি করতো। আম্মা এই বিষয়টি আব্বুকে জানান। আব্বু এর পর থেকে " লুনা ও শুভু " সম্বোধন করতেন। আমার ভাইটি আমার পিতার খুব ভক্ত ছোটবেলা থেকে। সকাল বেলা খুব থেকে উঠে আমাদের মাথার কাছের ওয়ার্ডরোব ধরে টানাটানি করতো। তার ধারণা ছিল আব্বু তার জন্য গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে এবং তা ঐখানে আছে. আম্মা আমাকে সাথে নিয়ে গুলশান এক নম্বরে পোস্ট অফিসে চিঠি পোস্ট করতে যেতেন। এই বিষয়টিতে আমি খুব মজা পেতাম. আমার মনে আছে ঈদের সময় আম্মা ঈদ কার্ড পাঠিয়েছিলেন সুন্দর গ্রামের ছবি আঁকা ঈদকার্ড। তখন কোথায় পাওয়া যেত কে জানে।

আব্বু ছবি পাঠাতেন। কিছু কিছু ছবির পেছনে লেখা থাকতো। এখানে একটি ছবিতে লেখা আছে - অস্পষ্ট। পেছনে খুব ভালো বর্ণনা দেয়া , স্পষ্ট লেখার ছবি কোনো একটি এলবামে আছে। খুঁজে বের করতে হবে।

আব্বু আমার জন্য স্ট্যাম্প পাঠাতেন। সেখানে পশ্চিম জার্মানির স্ট্যাম্প ছাড়াও অন্যান্য দেশের স্ট্যাম্প থাকতো। এরমধ্যে একটি দেশের নাম বিশেষ আছে টোগো বা টোগল্যান্ড আরেকটি ছিল কঙ্গো। আসলে এইসব দেশের লোকেরাও আব্বুর সাথে ট্রেনিং এ ছিল। আব্বু তাদের থেকে এইসব স্ট্যাম্প সংগ্রহ করে আমাকে পাঠাতেন। পিতারা কত কি যে করেন সন্তানের জন্য। এইসব স্ট্যাম্প একটি এলবামে জমাতাম। আমার আর আমার মামাতো ভাই সাদির একই রকম স্ট্যাম্প এলবাম ছিল। কে কিনে দিয়েছিলো আম্মা না বড় মামা মনে নেই। কিন্তু আমরা ভাগাভাগি করে স্ট্যাম্প জমাতাম। মানে আমার আমি সেখান থেকে তাকে দিতাম মামা এনে দিলে সে আমাকে দিত। যোথ পরিবারে এমন ভাগাভাগির অভ্যাস ছিল। আমার বড় মামা একটি বাই সাইকেল কিনে দিয়েছিলেন। লাল রঙের টুকটুকে সাইকেল। সেটা আমরা সবাই পালা করে চালাতাম। মামা কিনেছেন বলে মামার ছেলেরা চালাবে এমন কোনো কথা কারো মাথায় আসত না তখন পর্যন্ত। বাংলাদেশের স্ট্যাম্প মনে আছে ইলিশ মাছ অথবা কাঁঠাল গাছ অথবা বাংলাদেশের ম্যাপ ওয়ালা।

আব্বু জার্মান ভাষা শিখেছিলেন। শেষ জীবন পর্যন্ত কিছু কিছু তার মনে ছিল। ছবিতে যে জার্মান ভদ্রলোক এবং তার পরিবারের ছবি আছে তার সাথে দীর্ঘদিন আব্বুর পত্র মারফত যোগাযোগ ছিল।