ছায়াছবি তালিকায় ফিরে যান

ছায়াছবি ৮

স্বপ্নভঙ্গ ও স্বপ্ন শুরুর গল্প

February 23, 2025

একসাথে এতো মানুষের এতো স্বপ্নের শেষ, পরিকল্পনার শেষ দেখেছি এবং অনুভব করেছি - এও এক দারুণ অভিজ্ঞতা। অথবা নিদারুণ অভিজ্ঞতা। এসব গল্প মস্তিষ্কে ধরে রাখলাম। যদি সময় পাই - যিনি দেখিয়েছেন, তিনি যদি বলার সময় দেন তো একদিন নিশ্চয়ই বলবো। মানুষ স্বপ্ন ভঙ্গ হলে আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখে কিন্তু নিজের অহং এ আঘাত লাগলে ভেঙে পড়ে। ঘুরে দাঁড়াতে পারে না।

যাক গুলশানের গল্পে ফিরে আসি। ভোলা নামের গ্রামটি গুলশান হয়ে গেলো ষাটের দশকের শুরুতে। কারণ ঢাকা ইম্প্রোভমেন্ট ট্রাস্ট নতুন আবাসন প্রকল্প তৈরী করছিল- ঢাকার উঠতি মধ্যবিত্তের জন্য। তাই ভোলা গ্রামের লোকেরা জায়গা ছেড়ে দিলো। কোথায় গেলো তারা ? তাদের কি কোনো স্বপ্ন ছিল? তারা কি নতুন জায়গায় নতুন করে স্বপ্ন তৈরী করেছিল? আমরা জানি না।

আমার নানা জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া গুলশানে বাড়ির কাজ শুরু করেন ষাটের দশকের শেষে। তিনি সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। নানা ১৯৩৬ সালে ইতিহাসে অনার্স সহ মাস্টার্স করে সরকারি চাকুরীতে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগদান করেন।

আমার নানা খুব একটা বৈষয়িক ছিলেন না। চাকুরী সূত্রে অনেক সুযোগ থাকা সত্বেও তিনি বাড়ি ঘর করেন নি অনেক দিন পর্যন্ত। গুলশানে জমি বরাদ্দ শুরু হলে তার মামাতো ভাই নুরুল হুদা ( তাতু নানা) তাঁকে আবেদন করতে উৎসাহ দেন। নানার অবসরের সময় হয়ে এসেছিলো এবং ঢাকায় থাকার জায়গা দরকার ছিল। টাকা কিস্তিতে দিতে পারা যাবে এবং হাউস বিল্ডিং লোন পাওয়া যাবে জেনে তিনি রাজি হয়েছিলেন। তাঁর মত সৎ লোক খুব কম দেখেছি।

১৯৭২ থেকে তাঁর মৃত্যু অবধি (১৯৯৫) আমার নানা এই বাড়িতেই থেকেছেন এবং এখনো তার বংশধরেরা সেখানেই থাকে। বাসাটার চেহারা বদল হয়েছে যদিও।